শনিবার, ৭ মার্চ, ২০১৫

শিশু সাহিত্যঃ চক্কনা



-   কাল্কা তিশা আচ্চিলো? হুউউউ? কাল্কা টিশা আসচিলো তুমার এইহানে?
-   তিশা কে?
-   ঐযে আমগো বাছায় যে থাহে!
-   তোমাদের বাসায়?
-   হু, আংগো বাসায়!
-   হ্যাঁ, কি হয়েছে?
-   অ আস্লে না তুমি অরে মারবা, হ্যাঁ?
-   কেন? মারবো কেন?
-   অ তো ভালু না। খুব খারাপ। বদমাইশ!
-   কেন?
-   অরে তুমি চক্কনা মারবা, হ্যাঁ?
-   চক্কনা কি?
-   চক্কনা! থাপ্পড়! অরে থাপ্পড় মার্বা।
আমি আমার আরেক ছাত্র নিশান এর দিকে তাকিয়ে হাসি দিলাম। পিচ্চি আবার এক্সপ্লেইনও করে দেয়, চক্কনা মানে থাপ্পড়!
আমার হাসা দেখে পিচ্চিও লজ্জিত হাসি দিয়া আবার বলে উঠে-
-   তুমি কিন্তু তিছাকে পিট্টি দিবা। কিল দিবা তুমি অরে!
-   আমি কেন কিল দেবো? আমি কি বাবুদেরকে মারি?
-   না, দ্যাও না। কিন্তু, তিছাকে দিবা।
-   কেন? ও কি করেছে তোমার?
-   অ ছারাদিন আমাগো বাসাত আইশা থাহে। আমাগো ভাত খায়। আমাগো বাসাত দুধ চায়। আমার মত এক গেলাশ দুধ খাইতে চায়!... এই পর্যন্ত বলে ওর মুখ মলিন হয়ে এলো।
-   আমাগো বাসার সব জিনিস নিয়া যাইতে চায়। আমার রঙ পেন্সিম, আমার এবিসিডি ও নিয়া যাইতে চায়। ঐযে তুমি আমার জন্য কিনা আঞ্ছো না, ঐগুলা অ নিয়া যাইতে চায়। অরে কিন্তু দিবানা! (ওর রঙ পেন্সিল আর পড়াশুনার ইংরেজী- বাংলা অক্ষর আমার কাছেই থাকে। ও শুধু আমার বাসায় এসে পড়ে।)
   আমার পিচ্চি বাবুমনিটার কালার সেন্স বেশ ভালো। মাত্র চার বছর বয়সী পিচ্চিটাকে আমি বেশিরভাগ সময়ে তাতক্ষণিক ছবি এঁকে দিয়ে রঙ করতে দেই।
অনেক সময়ে আমি নিজেও ছবি খারাপ এঁকে ফেলি। তবু, আমি শুধু ওর রঙ দেয়াটা লক্ষ্য করি। আউটলাইনের বাইরে যায় কিনা লক্ষ্য করি। বেশিরভাগ সময়েই খুব সুন্দর করে রঙ করে। যেটায় যে রঙ দিলে ভালো দেখায়, তাই দেয়। তবে কিছু কিছু সময়ে বিদঘুটে রঙ করে। তখন বুঝে নিতে হয় যে পিচ্চির মুড ভালো নেই! তখনো আমি ওকে বকা দেইনা। কারণ ওটাই শিশুর সাইকোলোজি বুঝে পড়ানো। বেশিরভাগ সময়েই ওকে আমি কালার ডিরেকশন দেইনা। মাঝেমাঝে ডাল, ফুল, নির্দিষ্ট ফল, আকাশ এর কি রঙ হয় তা বাস্তবের সাথে মিলিয়ে বুঝিয়ে দেই। পিচ্চিটা ভালই বুঝে নেয়। পরব্ররতীতে ২য় বার আর বুঝাতে হয়না। নিজেই বুঝে কোন কালার কোথায় দিতে হবে।
আমার এখানে শুধু পিচ্চিটার জন্য পড়তে আসার টাইম একটু ব্যতিক্রমী। যেহেতু বেশি ছোট; এবং পিচ্চিটার পরিবারের সাথে আমার সুসম্পর্ক আছে তাই ওকে আমার এখান পড়ার জন্য একটা সীমা বেঁধে দেয়া আছে। বাকি সবাইকে হয়তো আসতে হচ্ছে বিকেল ৫টায় বাঁ সকাল ৯টায়। কিন্তু ওকে আসতে বলা হচ্ছে বিকেল ৫-৬টার মধ্যে অথবা সকাল ১০টা-১১টার মধ্যে।

একই ধরনের কাজ আমি প্রতিদিন করাই না। কখনো বাক্স দিয়ে মজার কিছু বানিয়ে দিচ্ছি। কখনো শক্ত কাগজের উপরে ছবি এঁকে ওয়াল ম্যাট এর মতন বাঁধাই করে দেই যেন বাসায় গিয়ে ঝুলিয়ে রাখতে পারে। কখনো ইংরেজী অক্ষর মোটা করে এঁকে দিয়ে রঙ করতে দেই। কখনো কার্টুন চরিত্র এঁকে দেই। পিচ্চিটা এইসব কারনেই বোধহয় আমার কাছে পড়তে আসতে চায় সপ্তাহের সব কয়টি দিনেই। 

কোন মন্তব্য নেই: