১৩ আগস্ট ২০১১ ইং ...
১
সামস বাড়িতে গিয়েছে। বিষয়টা চূড়ান্ত করতে।
নাদিবার খুব অস্থির লাগছে। সন্ধ্যা থেকে কয়েকবার ফোন করেছে সামসের নাম্বারে। ফোনটা বেজেই চলেছে। কিন্তু রিসিভ করেনা! কিছু সময়ের ব্যবধানে আরো কয়েকবার চেষ্টা করে ফোন বন্ধই পেলো।
মাথাটা যথাসম্ভব ঠান্ডা করে
পড়তে বসলো। সামনে একটা ইন্টারভিউ আছে। অটবীতে। চাকরীটা তাকে পেতেই হবে। একটা ভালো
চাকরির জন্যই তো ঢাকায় আসা। পরিবার থেকে দূরে থাকা। সামসের সাথে বোঝাপরা পরে হবে।
২
মাঝখানে
কয়েকদিন কোন কথা হয়নি। ও আশা করেছিল সামস নিশ্চয়ই ঢাকায় ফিরে ওকে নিজেই এসে সব
জানাবে। কিন্তু, ওর দিক থেকে কোন সাড়া না পেয়ে অবাক নাদিবার খুব অভিমান হয়েছিলো!
অটবীর চাকরিটা কনফার্ম হতেই আর অভিমান ধরে
রাখতে পারলো না। সামসের অফিসে গেলো। সামস অফিস থেকে বের হয়ে ওর সাথে খুবই স্বাভাবিক আচরণ করলো। ইন্টারভিউ এবং নিয়োগ সংক্রান্ত সব খোঁজখবর নিলো।
৩
চাকরিতে জয়েন করে প্রথম ক'দিন বেশ ভালোই কাটলো। অফিসে ও একাই মহিলা অফিসার। সবাই বেশ আন্তরিক ব্যবহার করছে।
প্রথম বেতন পেয়ে বেশ ফুরফুরে মেজাজ নিয়ে অফিস থেকে বের হলো সুমনা।
- “এই শুনছো, তুমি কোথায়?”
- “আমি ব্যস্ত। ভালো আছি। কি বলবা তাড়াতাড়ি বলো।“
- “আজ একটু দেখা করবা? অফিসে আসবো?”
- “অফিসে আসতে হবেনা! বললামনা আমি আজ ব্যস্ত!”
- “ও মা, এত
রাগ দেখাচ্ছ কেন? হবু বউয়ের সাথে কেউ এমন ব্যবহার করে!” খুশি ও লজ্জা মিশ্রিত গদগদ কন্ঠে কথা বলে উঠলো নাদিবা।
- “কে হবু বউ?”
- “মানে?”
- “মানে আবার কি! জানো না রুনীর সাথে আমার
পান চিনি হয়ে গেছে!”
নাদিবার সমস্ত
পৃথিবীটা দুলে উঠলো। এ কি শুনলো ও! পরে যেতে যেতে নিজেকে সামলে নিলো। কবে এতসব
কান্ড হলো জানতে ফোনটা কানে নিয়ে দেখে লাইনটা কেটে দেয়া হয়েছে।
আরো কয়েকবার চেষ্টা করে লাইনটা প্রথমে
বিজি তারপরে বন্ধ পেলো।
ওহ্!! সামসের বিয়ে! পাত্রী ও নয়! ও পাত্রী নয়!!!
রাস্তায় পাশ দিয়ে হেঁটে যাওয়া একজনের সাথে জোরে ধাক্কা খেলো! “দেখে হাঁটুন”
বলে উপদেশ দিয়ে গেলো লোকটা!
৪
গত কিছুদিনে সামসের আচরণ এখন পরিস্কার। আসলে বাড়িতে গিয়েছিলো নিজের বিয়ের জন্যই। আর ও ভেবেছিলো ওদের দুজনের বিয়ের কথা পাকাপাকি করতে যাচ্ছে। “ওহ্, কি বোকা আমি!!!” ভাবতে ভাবতে বাড়ি ফেরার পথে ডিসপেন্সারী থেকে এক ডিব্বা ঘুমের বড়ি কিনলো। তারপরে, বাড়িতে ফোন দিলো। নাদিবার পিঠাপিঠি বোন
এরিনা রিসিভ করলো,
- “হ্যারে, সামসের বাড়ি থেকে কবে সবাই আসবে বলেছে?”
- “বাবা-মা’কে দে একটু কথা বলি।“
- “তোর কি হয়েছে? গলার স্বর এমন কেন?”
- “কিছুই হয়নি। আমাকে তোরা সব ক্ষমা করে দিস্” বলে এবার ফুঁপিয়ে কেঁদে উঠলো।
বোনকে আর কিছু বলার সুযোগ না দিয়ে লাইন কেটে দিলো। ঘরে ফিরে নামাজ পড়ে নিলো। তারপরে রান্নাঘরে সবার অলক্ষ্যে গিয়ে সবগুলো বড়ি একসাথে পানি দিয়ে খেয়ে নিয়ে সবার সাথে বসে বিছানায় গল্প করতে লাগলো। এর পরের কাহিনী ওর জানা নেই।
পরে শুনেছে। অনেকদিন পরে।
সবাই বিছানার ওপরে বসে আড্ডা দিচ্ছিলো। হঠাৎ লাকি দেখে নাদিবা বিছানায় কাত হয়ে পরেছে। দৌঁড়ে কাছে এসে অনেক ডাকাডাকি করেও জ্ঞান ফিরাতে না পেরে, নাদিবার বাড়িতে খবর দেয়। হোস্টেল সুপারকে জানিয়ে তাড়াতাড়ি হাসপাতালে নিয়ে যায়। সেখান থেকে প্রাণ হাতে করে নিয়ে এলেও ও পরিণত হয়েছিলো মানসিক রোগীতে। উল্টাপাল্টা কথা বলত। এরিনা সেই রাতেই ঢাকা রওয়ানা হয়ে গিয়েছিলো। বোনের খবর জানাতে সামসকেও ফোন করেছিলো। কিন্তু সে
আসেনি। আর কোন যোগাযোগও করেনি।
৫
বছর চারেক পর...
গ্রামিণ ফোনের কাস্টোমার ম্যানেজার নাদিবা। জীবনের পুরনো ক্ষত সারিয়ে সে অনেকখানি স্বাভাবিক এখন। ওয়ান
ব্যাংকের সিনিয়র অফিসার স্বামী আর জমজ ছেলে নিয়ে বেশ ভালোই দিন কেটে
যায়। পুরনো দিনগুলো এখন শুধুই
দুঃস্বপ্ন! অথবা অস্তিত্বহীণ কল্পনা। কখনো ঘটেছিলো বলেই ভুল মনে হয়।
--০--
কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন