রবিবার, ৮ মার্চ, ২০১৫

বই আলোচনাঃ সংকাশ লিটল ম্যাগ

১৮/০৬/২০১২ ইং, ফেসবুক নোটস এ প্রকাশিত 
(পাঠানুভূতি, মুক্ত চিন্তার ছোট কাগজ ‘সংকাশ’ এর প্রথম খন্ডকে উপলক্ষ্য করে)

।।এক।।
কি সুন্দর চকচকে
পেলব স্কিন,
কালোতে তাঁর এত রুপ!
বারে বারে ছুঁয়ে দিতে ইচ্ছে করে
বারে বারে তাই বুলিয়ে দেই
ওর তনু দেহখানি।
সামনে পেছনে বারে বারে ছুঁয়ে দেই,
বারে বারে খুলি ওর নিপাট শরীরি ভাঁজ,
উলটে পালটে দেখি বারে বারে,
গন্ধ শুঁকি বুভুক্ষু হৃদয়ে!
...আমাদের উপর তলায় থাকে সেঝ খালামনি; ওনার মেয়েকে নিয়ে সন্ধ্যায় এসেছেন আমাদের বাসায়। মায়ের ঘরে বিছানায় বসেছেন। খালাতো বোন তুনা বিছানায় পেপার ছড়িয়ে বসেছে। আমি ওর সামনে ‘সংকাশ’ রাখলাম। ও আমার দিকে ফিরে বলে উঠলো জিজ্ঞাসু দৃষ্টিতে, “প্রচ্ছদটা কে করেছে?” ওর চোখেমুখের ভাব বলে দিচ্ছে, “তুমি করেছো?” আমি জবাব দিলাম, “মনির মুকুল নামের আমাদের এক লেখক ভাইয়া।“ ও গাল ভরা হাসিতে মাথা ঝাকিয়ে বলে উঠলো, “খুব সুন্দর হয়েছে!” বলে উলটে পালটে বইটা দেখলো।

।।দুই।।
বড় মামার মেয়ে থাকে তুনাদের ঠিক পাশেই। নিসু। আমার ঘরে এসে বিছানায় বইটা দেখে ছোঁ মেরে নিয়ে বললো, “এটা তোমার নতুন বই? নিই এটা?” ওর ছোট বোনটা একটা বিচ্ছু; বাসায় নিয়ে দেখা যাবে দাগিয়ে দুগিয়ে বারোটা বাজাবে আমার কালো সুন্দরীর শরীরটা। তাই আগেই বলে দিলাম, “বইতো আগামী বইমেলা থেকে কিনতে হবে! এটা নিয়ে যা, দাগাইস না!” ও বললো, “তাহলে থাক, আমার পরীক্ষা শেষের পর চুটিয়ে পড়বো। তখনই নিবো।“

।।তিন।।
শুক্রবারে ছবির হাট বন্ধুমেলার আড্ডা থেকে বাসায় ফিরেই মায়ের চোখের সামনে মেলে ধরলাম বইটা। মা একটা নিয়ে খাটে আধশোয়া হয়ে চোখে চশমা পড়ে আয়েশী ভংগীতে পড়তে শুরু করলেন আমাদের ‘সংকাশ’! এবং নিজে এক কপি দখল করলেন। ওটা নিজের বলে। কি লিখলাম, কি লিখি সেটা বড় কথা নয়, পরিবারের সবচেয়ে কেন্দ্রের একজনের এই মুগ্ধতা খুব দরকার ছিলো আমার। দিন রাত ল্যাপটপ কোলে নিয়ে বসে থাকার এইটুক সার্থকতা! তাঁর চোখে তো পরলো!

।।চার।।
মুক্ত চিন্তার ছোট কাগজ আর আমি-বিছানায় এই দু’জনের পাশাপাশি অবস্থান। একজন কোলে ল্যাপটপ নিয়ে বসে সারাদিন কি-বোর্ডে আঙ্গুল নাড়ছে। আরেকজন শুয়ে। মাঝেমাঝে শোয়া থেকে কোলে উঠে বসে আমার। গায়ের গন্ধ শুকে হাত বুলিয়ে আবার শুইয়ে রাখি ওটাকে আমার পাশেই।

।।পাঁচ।

ছবিরহাটে বইটি হাতে নিয়েই সবচেয়ে আগে চোখ পরেছিলো রুমানা বৈশাখী আপুর ‘জানোয়ার’ গল্পটিতে। ওটা দিয়েই কাগুজে ‘সংকাশ’ পাঠ করলাম শুরু। একটু আগে রুমানা আপুর সাথে ফেসবুক এ ওনার ‘পারি’ নিয়ে কথা হচ্ছিল। প্রায় শেষে আমি বললাম, “এখন ঘুমোতে যাবার আগে তোমার গল্পটা পড়বোওনার কাছে জানা গেলো এটা নাকি ওনার রচিত সবচেয়ে বিচ্ছিরি লেখা। কি বিনয়! এই কথা শুনে তো আরো তীব্র ইচ্ছে, কেন পঁচা! জানতেই হবে! বইমেলা ২০১১ থেকে ‘ঋতানৃত’ গল্প সংকলন পড়ার পর থেকেই আমি আপুর লেখার দারুন ভক্ত। যাই হোক, ‘জানোয়ার গল্পের শুরুতে কতগুলো বাচ্চার কথা’ দেখে আরো বেশি আকৃষ্ট হলাম। বাচ্চাদের কথা এমনিতেই অনেক মজার! বাচ্চারা যে কত অদ্ভূত কথা বলে। আবার মজার মজার কথাও বলে। আমার শিক্ষকতা জীবনের সবচেয়ে বেশি সংখ্যক শিক্ষার্থী পেয়েছি বাচ্চাদের। এরা বড়দের চেয়ে কোন অংশেই ভালো বন্ধুর জায়গা দখল করে না! মাঝে মাঝে বেশ ভালো পরামর্শও দিতে পারে।
গল্পের শুরুতে বাচ্চাদের কথাগুলোতে শব্দ করে হসে কুটিকুটি হলাম। আর শেষে এসে দু’পেয়ে জানোয়ারের কাহিনীটা দারুন দক্ষতায় ফুটিয়ে তুলেছো আপু। দাদাভাই ঐ জানোয়ারটাকে ‘বাবু’ বলে ডাকে আর আমি ডাকি ‘বাবা’। উফ! চরম!

।।ছয়।।
বইটির প্রুফ দেখার সময়েই কিছু কিছু গল্প মন কেড়ে নিয়েছিলো। দেবালয় তার মধ্যে অন্যতম একটি গল্প। আমার চেনা জগতের হাত দিয়ে ছোঁয়া যাবে, ডাকলে কাছে পাওয়া যাবে এমন একজন লেখক সত্বার হাত ধরে এই গল্পটি রচিত এ যেন ঠিক বিশ্বাস হতে চায় না! দিলরুবা মিলি। নামটা তো সাধারণই। আর দশটি নামের মাঝে সহজ হয়েই ধরা দেয়। কিন্তু তাঁর লেখক সত্বা! সে অবশ্যইইই...আলাদা কিছু। আলাদা মেধার। আলাদা চিন্তাশক্তির অধিকারী একজনার! গল্পটায় মুগ্ধতা এতটাই যে হৃদয় মাঝে লেমিনেটিং করে রেখে দিলাম সেই মুগ্ধতাটুকু। আমার ধারনা যে গল্পটি পড়বে সেই মুগ্ধ হবে। চমতকৃত হবে। ইচ্ছে হবে বার বার পড়ি গল্পটা।     


(চলবে)

কোন মন্তব্য নেই: