রবিবার, ৮ মার্চ, ২০১৫

ক্ষুদ্র গল্পঃ ব্যথা

২৮ আগস্ট ২০১২ ইং রচিত... 

শীত শীত করতেছে। জ্বর আসবে? নাকি অলরেডি আইসাই পরছে? আশেপাশে উপরে উঁকি দিয়া দেখলাম এসির লাইন আছে নাকি। আছে। একেবারে আমার মাথা বরাবর উপরে। ঠান্ডা লাগা তাইলে ঐ ব্যাটারই কাজ। জ্বর আসে নাই। শার্টিনের থ্রি পিস পরে আসছি তো, জামার হাতা ছোট। আর ওড়না গামছার মত ফুটা ফুটা। পিওর সুতির গামছা হুলে ঠান্ডা লাগতো না। সুতি না। জর্জেটের মনে হয়। তাই ঠান্ডা ঢাকতে পারছি না।
ঠান্ডা আর ব্যথা ভুলে থাকতে আমি আশেপাশে নজর বুলাই। আমার পাশে বসেছে সামনের দিকে আমার আম্মা। তার পাশে দুইটা ইয়াং ছেলে। কি বিষয় নিয়ে যেন দুজনে খুব হাসাহাসি করছে। আমার ডান পাশে বসা ছিলো আগে থেকেই একটা খোচাখোচা দাঁড়িওয়ালা ব্যাটা, পরনে লুংগি। তার ডান পাশে একটা দারুন স্মার্ট মেয়ে। মেয়েটার বয়স ধরা যাচ্ছে না। সতেরো হতে পারে। আবার বিশ একুশও হতে পারে। চেহারা পাকনা। বিবাহিত হলেও আশ্চর্য হবার কিছু নেই। পরনে টাইডস আর একটা কালো ঢোলা ফ্রক। হাতে ভ্যানিটি ব্যাগ। বেনী করেছে মেয়েটা। ইয়া বড় মোটা বেনী। দেখেই হিংসা লাগলো। এইরকম চুল এক সময় আমারো ছিলো। রুমানা আজাদ নামের এক ফেসবুক বন্ধুতা শুধু ছবি দেখে একটা সুন্দর মন্তব্য করেছিলো যা এখনো মনে আছে। তোমার চুল বাঁধা দেখতে দেখতে ভাংলো কাঁচের আয়না!

বড় বেনী ওয়ালা মেয়েটির সাথে একটা সাত-আট বছর বয়সী ছেলে। ছেলেটা কি এই মেয়েটার নাকি ওর ছোট ভাই? একটু পর পর মেয়েটি উঠে দাঁড়াচ্ছে। কিছুক্ষণ পরে পাশে এসে দাঁড়ালো দারুন লম্বা চওড়া স্মার্ট একজন মহিলা। তিনিও সালোয়ার কামিজ পরা। কালো। কিন্তু, মহিলা মুখ খোলার পরে স্মার্টনেস ঘুঁচে গেলো।   

কোন মন্তব্য নেই: