রবিবার, ৮ মার্চ, ২০১৫

বইমেলায় নতুন বই প্রকাশের উচ্ছ্বাস



বাংলা একাডেমীর একুশে বইমেলায় বই প্রকাশের বিষয়টাকে কে কিভাবে নেন আমি জানিনা, আমার নিজের গণ্ডিতে কোন কিছু কোথাও প্রকাশিত হওয়াকেই আমি আমার জীবনের এক ধাপ অগ্রসরতা বলে মনে করি। আর তাই, “নৈঃশব্দের উচ্চারণ” নিয়েও আমার মধ্যে রয়েছে, এক্সাইটমেন্ট; এই বইয়ের একজন লেখক হিসেবে (হোলাম ২৩ জন এর একজন অথবা হোলাম না হয় এই সংকাশ নামের লেখক দলের একজন ক্ষুদ্র মানের লেখক), তবুও তো আমি একজন লেখক ... অন্ততঃ এই বইয়ের ক্ষেত্রেই না হয় গণ্য করি। সেক্ষেত্রে, একজন লেখক হিসেবে মোটামুটি ৩-৪টি বই না হলে কি চলে বলুন? একেবারে নবীন লেখকের নিজের পরিচিতিটা নিজেকেই বাড়াতে হয়; অথবা, কথাটা এভাবেও নেয়া যায় যে, একেবারেই নবীন একজন এর (‘লেখক’ শব্দটা এড়িয়ে গেলাম) লেখা কোন গল্প “ভাষাচিত্র” নামক ভালো প্রকাশনীর মাধ্যমে প্রকাশ হওয়া বইতে ...সেক্ষেত্রে নিজের বন্ধুমহলে হলেও বই তো একটা –দুটো ফ্রি বিলাতেই হয়। আমরা লেখকরাই বই হাতে না পাই তাহলে একজন নবীন হিসেবে মনটা খারাপই হয়! অন্ততঃ আমার নিজের বক্তব্য এটা।
সংকাশ এর আকাশে একটা হালকা পাতলা ঝড়ের আভাস পেয়েছি। ঝড়টা কিভাবে কোন দিক থেকে উঠেছে সেটাও কিছুটা জেনেছি। তবে, আমি মনে করি, “সংকাশ” একটা লেখক দল। এই দলে সবাই মুক্ত মনের মানুষ। হঠাত মনোমালিন্য একটা পরিবারেও হয়। সংসারের সব সদস্যের মূল্যবোধ, দৃষ্টিভঙ্গি একই রকম নয়। মাঝেমাঝেই তুমুল বাকবিতণ্ডার সৃষ্টি একটা সংসারেও হয়। আমি সংকাশ, কিংবা পূর্বিতা (আমি যে চিত্রশিল্পী গ্রুপে আছি তার নাম), অথবা, যেকোন ধরনের সংগঠনই একটা পরিবারের মত। এখানে বাবা-মা না থাকতে পারেন, কিন্তু, বড় ভাই-বোন ও ছোট ভাই-বোনের মত সম্পর্ক জড়িয়ে থাকে।
আমি মনে করি সব সংসারেই তুমুল ঝড় ওঠে, সেই ঝড় এক সময় থেমেও যায়। না থামলে এই সংসার কিভাবে বছরের পর বছর টিকে থাকে? তাই সংকাশ –এ যেই ঝড় উঠেছে সেই ঝড় থামানোর জন্য আমার মনে হয় সবাই একসাথে বসা দরকার। কি সুন্দর একটা ফাল্গুনী হাওয়া বইছে বইমেলার চতুর্দিকে; থাকুক এক পাশে তরুণ সমাজের ও সারা দেশের জনগণের যুদ্ধাপরাধীদের শাস্তির জন্য গণসমাবেশ; নিজের জন্য কি একটু সময় দরকার নেই? আমি মনে করি, আছে। এই নিজের বলে নেওয়া সময়টা মানে, সংকাশ এর সব সদস্যরা আসুন, আমরা এক সাথে একদিন মুখোমুখি কোথাও বসি। দূর থেকে দু’একজন গাল ফুলিয়ে বা অভিমান করে কোনকিছুরই কিছুই সমাধান হবে না। এতদিন কোন নীতিমালা ছাড়াই সংকাশ চলেছে। কিন্তু, আজ যখন বাকবিতণ্ডা লেগেই গেলো, তাহলে চলুন, আমরা একটা নীতিমালা তৈরি করি। কিছু স্বচ্ছ মনের সুন্দর কিছু মানুষের সংগঠন হলো সংকাশ; এই দলকে তো ভেঙে দেয়া যাবেনা। আমরা গড়েছি, আমরা একে আর ভাংবোনা। আমি পরে যুক্ত হলেও এই দলের প্রতি আমার রয়েছে গভীর ভালোবাসা। আসুন, আমরা আমাদের ছোট ছোট মান অভিমানগুলোকে দূরে সরিয়ে রেখে আবার একতাবদ্ধ হই। ফাগুনের যে রং আমাদের হাতছানি দিয়ে ডাকছে তাকে উপভোগ করি।
আজ বিশ্ব ভালোবাসা দিবসে বইমেলায় গিয়েছিলাম। খুব ঘুরাঘুরি করে বাসায় ফেরার সময়ে রিকশা না পেয়ে রাজশাহী সিল্ক শাড়ি পড়া অবস্থায় ক্লান্ত শরীরে বাসায় ফিরেছি রাত ১০টায় রাজপথ হেঁটে হেঁটে। খুবই ক্লান্ত শরীর। এখনো নামাজে দাঁড়াইনি। রাতের খাবারও খাইনি। আগে কথাগুলো বলে শান্তি পাবো তারপরে বাকি সবকিছু। এত কষ্ট করে লিখলাম, আশা করি আমার প্রিয় সংকাশ বন্ধুরা, সাড়া দেবেন। আর, কবে কোথায় আসতে হবে, জানায়েন।
......আমাদের দরকার মুক্ত সভা...
...এই ফাগুনেই আসুক ভালোবাসার জোয়ার,
...ধুয়ে যাও সব অমানিষা!...
-------------------------------------------------------
জাকিয়া জেসমিন (যূথী)
১৪ই ফেব্রুয়ারী, ২০১৩

রাত পৌনে বারোটা 

কোন মন্তব্য নেই: